করোনা ভাইরাসে বিশ্বে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি মানুষের। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। আর এ বিশ্বের মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশের মতো ঘটেছে সেখানে। ফলে দিনদিন জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়ছেই। ইতালির প্রতিটি বিভাগ এমনকি প্রায় সব প্রদেশেই করোনার থাবা পড়েছে। আর সেই করোনা আতঙ্কিত ইতালির ইসারনিয়া প্রদেশ এখনও করোনা মুক্ত। এমন একটি খবর দিয়েছে দেশটির স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম।
আর সমগ্র ইতালির মধ্যে এই একটি প্রদেশই করোনা সংক্রমণমুক্ত। বিরল এ ঘটনায় একদিকে যেমন সবাই আনন্দিত, তেমনি প্রতিদিন মৃতুর খবরে বিস্মিতও। শহরটিতে ৮৩ হাজার বাসিন্দা বসবাস করছে। মোট পৌরসভা রয়েছে ৫২টি। এর ঘনত্ব ৫৪ হাজার ৩৮ কিমি। আর প্রতিবেশী প্রদেশগুলো লাকুইলা, কাসেরতা ও ফ্রসিননে।
ইতালির একমাত্র এই প্রদেশের বাসিন্দারা মহামারীর প্রথম থেকে দেড় মাসের মধ্যে করোনা ভাইরাসে পজিটিভ কেউ শনাক্ত হয়নি।
যা ইতালিসহ বিভিন্ন দেশেও বেশ আলোচিত। যদিও তারা অবরোধের বাইরে নেই। এ পর্যন্ত সেখানে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এর আশপাশের শহরগুলোতে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু ইসারনিয়ায় কেউ আক্রান্ত হয়নি।
ইসারনিয়ার মেয়র জাকোমো বলেন, চলুন আমরা সবাই শান্তিতে থাকি। ৬৯ বছর বয়সী মেয়র তিনি একজন হিসাবরক্ষক। সেখানে বয়স্কদের জন্য বাসায় খাবার পৌঁছে দেয়া হয়। ওই এলাকার কিছু শিক্ষার্থী করোনায় বিভিন্ন শহরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা এ যাবৎ একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৯২।
এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৭২ জন। এটিও একদিনে আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৯ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন।
এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৮ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ জনের অবস্থা সাধারণ। ৩৫ হাজার ৪৭৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ১৫৫ জন। স্পেনে মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ৩৮৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১০২ জনের। চীনে ৩ হাজার ৩১২ জন। ফ্রান্সে ৪ হাজার ৩২ জন। ইরানে ৩ হাজার ৩৬ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
