আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে হেরেছে বাংলাদেশ

ক্রিকেট দুনিয়ায় পা রাখার পর থেকেই আম্পায়রদের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হতে থাকলে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর যাবত এ সংখ্যাটা কিছুটা কমছে বটে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে হারেনি। হেরেছে আইসিসির অদ্ভুত নিয়মের কাছে। চার বছর আগে ক্যান্ডিতে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে। একটি ডেলিভারি তার প্যাডে লেগে বাউন্ডারি হয়। প্রোটিয়াদের লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তোলেন মাঠের আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন জয়াবর্ধনে। তবে লেগবাই হিসেবে সেই বাউন্ডারির ৪ রান শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?

শ্রীলঙ্কা সেই ম্যাচটা জিতেছিল। তাই হয়তো অদ্ভুতুড়ে এই নিয়ম নিয়ে তখন কেউ মাথা ঘামায়নি।কিন্তু কাল গায়নায় বাংলাদেশ হেরেছে ৩ রানে। ইশ! যদি ওই চারটা তিত!

গায়ানায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অল্পের জন্য হেরে গেছে। এ ম্যাচে শেষ ওভারে ৮ রান তুলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে, আজ যে একটি বাউন্ডারির ৪ রান যোগ হয়নি বাংলাদেশের হিসাবে।

বাংলাদেশের ইনিংসের ৪২.৩ ওভারের ঘটনা সেটি। দেবেন্দ্র বিশুর বলে রিভার্স সুইপ করেছিলেন মুশফিক। খালি চোখে মনে হয়েছে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। কিন্তু বলটা ঠিকই বাউন্ডারির সীমানা পেরিয়ে যায়। এদিকে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে দেন মাঠের আম্পায়ার। সাথে সাথে রিভিউ নেন মুশফিক। ‘আলট্রা এজ’ প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বলটা তার ব্যাটে লেগেছিল। মানে তার ব্যাটে লেগেই বল সীমানাছাড়া হয়েছিল। কিন্তু মুশফিক কোনো রান পাননি। কিন্তু কেন?

আইসিসির আইনের ২৩ নং ধারার ১-এর তৃতীয় উপধারায় আছে, আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলটি ‘ডেড’ হয়ে যাবে। অর্থাৎ তখন ওই ডেলিভারি থেকে ব্যাটসম্যান কোনো রান পাবেন না। মুশফিকের ক্ষেত্রেও ঠিক তা–ই ঘটেছে। প্রথম সিদ্ধান্তটি ‘আউট’ থাকায় ওই ৪ রান আর যোগ হয়নি। যদি রিভিউয়ের মাধ্যমে পরে সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে? এই প্রশ্নে উত্তর কি আইসিসির কাছে আছে?

ওই ৪ রান যোগ হলে বাংলাদেশ তো ম্যাচটা জিতত, মানে সিরিজও জিতত! ক্রিকেটীয় আইনের এই প্যাঁচ একদিন বিতর্ক তুলবেই।