আমি ভাগ্যবান- জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মিয়ানমার সেনারা কীভাবে রাখাইনে পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে রাখাইনের অন্তত ১০টি গ্রামে ঢুকে সেনারা প্রকাশ্যে ও পরিবারের সদস্যদের সামনে ৪০ নারী ও কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে। অবস্থাটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, ধর্ষিত এক রোহিঙ্গা নারী তদন্তকারীদের কাছে বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, মাত্র তিনজন আমাকে ধর্ষণ করেছে!’
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুমুল আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ পাঁচ জেনারেলের নাম উল্লেখ করে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে না নেওয়া সম্ভব হলে অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।
চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেখানে রাশিয়া ও চীনের মতো সুপারপাওয়ার মিয়ানমারকে রক্ষা করে চলেছে, সেখানে সত্যিই ওই গণহত্যার বিচার কতটুকু করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। মঙ্গলবার এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধের লেখক কৃষ্ণাদেব কালামুর সেখানে রাখাইন গণহত্যার বিচার এই মুহূর্তে কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট নয়; বরং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের শুরু ১৯৮২ সালে। তখন দেশটির তৎকালীন জান্তা সরকার আইন করে রোহিঙ্গাসহ দেশটির আটটি ক্ষুদ্র জনজাতির মানুষদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
তখন থেকেই মূলত রোহিঙ্গারা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত ও নিপীড়িত হতে থাকে। গত বছরের আগেও ২০১২ সালে এক বৌদ্ধ নারী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয় রোহিঙ্গারা। সে সময়ও বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
আর গত বছর পুলিশ ও সেনা চৌকিতে হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই সময়ে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী।
কিন্তু এই মুহূর্তে এর বিচার সম্ভব কি-না তা নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, ‘আমরা আইসিসিতে এ বিষয়ে যে শুনানি বা পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছি; বাস্তবতা হলো রাজনৈতিকভাবে এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়।
তারপরও আমরা একটি কাঠামোগত পদ্ধতি প্রণয়নের প্রতি জোর দিয়েছি, যেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ নির্যাতনের তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তা জমা থাকবে। একই সঙ্গে এগুলো যেন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন সম্ভব হয়, আর তার জন্য একটি প্রসিকিউটোরিয়াল ফাইলও প্রস্তুত করা যায়। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাঠামোগত পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন আছে।’
নিবন্ধে আরও বলা হয়, মিয়ানমারে গণহত্যার তদন্তে জাতিসংঘের প্যানেলের সুপারিশটি অভূতপূর্ব হলেও এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য দেশ নয়। ফলে আইসিসিতে দেশটির বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো পদক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যকে নিতে হবে। আর মিয়ানমারের বন্ধু দেশ বলে পরিচিত চীন ও রাশিয়া পরিষদে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন।
তারা আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মিয়ানমারকে আড়াল করে চলেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারও রাখাইনের ঘটনা নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক তদন্তে সহযোগিতা করবে না বলে জানিয়েছে। এমনকি তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তেও সহযোগিতা করেনি।
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অলিভিয়া ইনোস বলেন, মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে আমাদের দেশ কিন্তু থেমে থাকেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্র একে ‘জাতিগত নির্মূল’ আখ্যা দিয়ে একটি অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন যে একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তা ইতিবাচক।
মা হলেন জর্ডান ফেরত কিশোরী, বাবা হয়নি কেউ!
স্বপ্নের জর্ডানে গিয়ে সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কিশোরী মৌসুমীর (ছদ্মনাম)। বাবার কোনও জমি নাই। তাই তার স্বপ্ন ছিল নানির বসতভিটায় একটি থাকার ভালো ঘর তুলবে। বাবা-মা, ছোট ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যের পরিবর্তন তো দূরের কথা, নিজের জীবনই আজ বিপন্ন। যারা তার জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে তাদের বিচার তো হয়নি বরং তাদের সঙ্গে করতে হয়েছে আপোস। এখন তার পরিবারও সমাজচ্যুত (একঘরে)।
জানা গেছে, সংসারের অভাব দূর করতে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর মৌসুমীকে জর্ডানে পাঠায় তার পরিবার। স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাকে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির দেশটিতে পাঠানো হয়। ১৫ বছরের এ কিশোরীর বয়স ২৫ বছর বানিয়ে পাসপোর্ট করে দেয় স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী।
এছাড়া জর্ডানে যাওয়ার আগে মেডিকেল রিপোর্টে অবিবাহিত মৌসুমীকে দেখানো হয় বিবাহিত। কথা ছিল বাসা-বাড়িতে কাজ দেওয়ার। কিন্তু প্রতি রাতেই তাকে সইতে হয়েছে নির্মম নির্যাতন। বাধ্য করা হতো শারীরিক সম্পর্কে।
একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মৌসুমী। কাজের সন্ধানে বিদেশ গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার এ কিশোরী দেশে ফেরার পর সমাজে নিগৃহীত হচ্ছে।
গত পাঁচদিন আগে তার কোলজুড়ে এসেছে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। এরপর সমাজপতিরা তার পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রেখেছে। এ অবস্থায় মহাবিপাকে পড়েছে পরিবারটি।
মৌসুমীর বাবা রিকশাচালক। তার বাবা-মা মেয়ের এই পরিণতির জন্য স্থানীয় জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের আবুল কাশেম ও জর্ডানে থাকা একই উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামের নিহাজ উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়াকে দায়ী করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। যার মাধ্যমে জর্ডানে গিয়েছিল মৌসুমী সেই আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করলেও সেই মামলা আপোস করতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
গত রবিবার কথা হয় জর্ডান ফেরত মৌসুমী ও তার বাবা-মার সঙ্গে। মৌসুমী জানান জর্ডানে অবস্থানকালে এক বছর ৫ মাসের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা। বাসা-বাড়ির কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে কোনও কাজই করতে দেওয়া হয়নি। প্রতি রাতে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হতো।
যখন জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো মৌসুমী তখনও তার বয়স ১৫ বছর হয়নি। অথচ তার বয়স ২৫ বছর বানিয়ে পাসপোর্ট করে দেয় আবুল কাশেম। এছাড়া জর্ডানে যাওয়ার আগে মেডিকেল রিপোর্টে অবিবাহিত এ কিশোরীকে বিবাহিত দেখানো হয়।
আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে জর্ডানে পাঠানোর চুক্তি করে। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ওই টাকা ঋণ করে জর্ডানে পাঠানো হয় মৌসুমীকে। কথা ছিল বাসা-বাড়িতে কাজ দেওয়া হবে তাকে।
ভুক্তভোগী এ কিশোরীর অভিযোগ, ‘জর্ডানে থাকা সোনিয়া একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার মতো আরও ২০ থেকে ৩০ জন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক ‘দেহ ব্যবসা’ চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী। কারণ প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি জর্ডানে রয়েছেন।’
অভিযোগ রয়েছে, জর্ডানে পৌঁছানোর পর মৌসুমীকে তার পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তার বাবা-মা স্থানীয় দালাল কাশেমের কাছে খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়েছে, জর্ডান থেকে মৌসুমী পালিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মেয়ের সন্ধান চেয়ে মামলাও করেন মৌসুমীর বাবা।
কয়েক মাস হাজতে থাকেন আবুল কাশেম। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় ও কাশেমের পরিবারের আকুতির মুখে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কথা ছিল ২০ হাজার টাকা মৌসুমীর পরিবারকে দেওয়া হবে। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পর প্রতিশ্রুতির একটি টাকাও তাদের দেওয়া হয়নি।
মৌসুমী ও তার মার অভিযোগ, ‘যারা মামলাটি প্রত্যাহার করতে মধ্যস্থতা করেছেন তাদের পকেটে চলে গেছে এ টাকা।’
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিকে মৌসুমীর বাবা ও মা জানতে পারেন, তার মেয়ে সিংগাইর উপজেলার চান্দহুর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামে নিহাজ উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়ার কাছে জর্ডানে আছেন। সোনিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হন তার মা-বাবা।
এদিকে জর্ডানে যাওয়ার পর তার ওপর নির্যাতনে কথা জানাতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘প্রতি রাতে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা হতো। এতে রাজি না হলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। গরম খুন্তি দিয়ে পিঠে ছ্যাঁকা দিয়েছে। পায়ে শিকল দিয়ে ঘরে আটকে রাখা হতো। প্রথমে যে বাসায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে প্রথম রাত থেকে তার ওপর যৌন হয়রানি শুরু হয়।
বাসার মালিক কয়েক মাস তার কাছে রাখার পর তাকে বিক্রি করে দেয় সোনিয়া নামে এক বাংলাদেশির কাছে। তার বাড়িও সিংগাইর উপজেলায়। সোনিয়া তাকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে যায়।
জর্ডানের দাম্মাম শহরের যে বাড়িতে নিয়ে যায় সেখানে তাকে ভিনদেশি একজনের সঙ্গে জোরপূর্বকভাবে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে। দেশে ফিরে আসার দুই মাস আগেও প্রতিটি রাতে তাকে ভিনদেশিদের যৌন নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।’
ভুক্তভোগী মৌসুমী বলেন, ‘সোনিয়ার ভাড়া বাসাটি একটি মিনি পতিতালয়। তার মতো আরও ২০ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশিকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানো হয় সেখানে।’
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মৌসুমী যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তখন সোনিয়া তাকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই মাস জেল খাটার পর গত ১৮ এপ্রিল জর্ডান সরকারের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন তিনি।
তিনি জানান, জর্ডান সরকার তার পাসপোর্টে লিখে দিয়েছে ‘সে কখনও আর জর্ডানে প্রবেশ করতে পারবে না।’
মৌসুমীর অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করানো হলেও তাকে শুধু তিন বেলা ভাত দেওয়া হতো। এছাড়া একটি টাকাও দেওয়া হতো না। টাকা চাইলে উল্টো মারধর করা হতো।’
তার আকুতি, ‘তার মতো আরও ৩০ জন নারীকে সোনিয়ার খপ্পর থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। নয়তো তার মতো কলঙ্কিত হয়ে দেশে ফিরতে হবে তাদের। পরিবারের বোঝা হয়ে বাকি সময় কাটাতে হবে।’
ভুক্তভোগী মৌসুমী ও তার পরিবার জর্ডানে থাকা সোনিয়া আক্তারের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে যে কন্যা সন্তানটি বাবার পরিচয় ছাড়াই ভূমিষ্ঠ হলো তার ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
মৌসুমীর মা বলেন, ‘বড় আশা করে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। এখন মেয়ের সন্তান কার পরিচয়ে বড় হবে তা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা। নিজেদের সংসারই চলছে না, তার ওপর মেয়ের কন্যা সন্তান হয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সিংগাইর হাসপাতালে সিদ্দিক নামের একজনকে (অজ্ঞাত) মৌসুমীর স্বামীর পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এটা অন্যায় জেনেও ডাক্তারদের চাপে ওই ভুয়া নামটি ব্যবহার করা হয়েছে।
মৌসুমীর বাবা বলেন, ‘অবিবাহিত মেয়ে বিদেশ থেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছে। এলাকার মানুষজনের নানা কানাঘুষায় তারা বাড়ির বাইরে বের হতে লজ্জা পাচ্ছেন। এমন অবস্থার মধ্যে গ্রামের সমাজপতিরা পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দিয়েছে।
এখন মরার উপর খাড়ার ঘা। সমাজের মাতব্বর আলেক উদ্দিন কোরবানি ঈদের আগে তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমাজ থেকে তাকে একঘরে করা হয়েছে। তাকে ওই সমাজের কোনও লোক সহযোগিতা করবে না।’
এ বিষয়ে স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, ‘অনেক নারী শ্রমিককে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন। মৌসুমীর মতো এমন ঘটনা কারও সঙ্গে হয়নি।’
এজন্য তিনি স্থানীয় আয়েশা নামের এক নারীকে দায়ী করে জানান, আমি তাকে ম্যানপাওয়ার করিয়ে দিয়েছি মাত্র। জর্ডানে যাওয়ার ব্যাপারে আয়েশা সবকিছু করে দিয়েছে। এই নিয়ে মৌসুমীর বাবা মামলা করেছিল। তাকে বিদেশ থেকে আনার পর স্থানীয়ভাবে বসে মামলাটি আপোস করা হয়েছে।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে ওই মেয়েটির পরিবার যদি আইনগত সহায়তা চান সেক্ষেত্রে তিনি আইনগত সহায়তা করবেন।
