আমি এরকম ব্যাটসম্যান না ঝড়ে বক মরেছে ভাই

২০১৫ বিশ্বকাপের পর দেশে ফিরে অধিনায়ক মাশরাফি বলেছিলো ‘মুশফিক হচ্ছে আমাদের রান মেশিন’। মাঝে কিছুদিন খারাপা সময় গেলেও ফর্মে ফিরতে সময়ে নেয়নি এই ক্লাসিক্যাল ব্যাটসম্যান। টেস্ট ও ওডিআইতে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের মূল পরিকল্পনায় মুশফিক থাকলেও সাবেক কোচ হাথুরুসিংহের শেষ আমলে মুশফিকের টি-২০ খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো।

চান্দিকার বিদায়ের পর তার দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফির দেখালেন ক্বজির জোরও তার কম নয়। মুশির ৩৫ বলে ৭২ রানের ইনিংস দেখে বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন,‘ মুশফিক যে এতো ছক্কা মারতে পারে আমার জানা ছিলো না।’ বিসিবি বসের এমন হাস্যকর উক্তির কোন জবাব মুশফিক না দিলেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক মুশফিকের এক একটা স্ট্রোক যেন আচরে পড়ছিলো নিন্দুকদের দাম্ভিকতার সুরে।

আফগানিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচে ভেলকি দেখিয়েছিলেন মুশফিক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিনি যা দেখালেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য! মনে হয় যেন ডি ভিলিয়ার্স বিদায় নিয়ে আর্ম ব্যান্ডটা মুশির হাতে তুলে দিয়েছেন। হোল্ডার, রাসেলদের তুলোধুনা করে ১১ বলে ২ ছক্কা ৩ চারে ৩০ রান থামে মুশফিকের ক্যামিও। মূলত মুশফিকের ঝড়ো ইনিংসটিই ছিলো বাংলাদেশের ম্যাচের টানিং পয়েন্ট।

এমন অতিমানবীয় ইনিংস খেলার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না মুশফিক। বরং বলেন,‘ আমি এরকম ব্যাটসম্যান না ঝড়ে বক মরেছে ভাই! নিয়মিত আমার কাছে এমন ইনিংস আশা করবেন না। আন্দাজে হয়ে গেছে! সত্যি বলছি আমি এভাবে খেলতে পারি না।’

গায়নার স্লো উইকেট পেয়ে মুশফিক কিছুটা অবাকই হয়েছেন। জানালেন,‘তারা আমাদের শক্তির জায়গা যেটা ঠিক সেরকম উইকেট বানিয়েছে। একটু স্লো এবং স্পিন সহায়ক।দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রায় একই উইকেট থাকবে, যা করার আজ গায়নাতে করতে হবে। সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবে না। ছন্দ যখন পেয়েছি। সেটা ধরে রাখতে হবে।’

তবে বিনয়ের সুরে মুশফিকের আরজি ‘ভাই আমাকে নিয়ে বেশি লিখবেন না, বেশি লিখলে হয়তো খারাপ করবো।’- থাক, মুশফিক বারবার মানা করেছেন এসব নিয়ে লিখতে!