“আপনার দানসামগ্রী নিতে সেলিম আলীর মতো মানুষেরা লজ্জা পায়”

প্রচুর লোকের ভীড়। একে একে সবাই হাতে নিচ্ছে দানসামগ্রী৷ যিনি দান করছেন তিনি একের পর দান করে মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছেন। এবার লাইনে আছে সলিম আলী। কিন্তু সে আর এগোয় না দান নিতে। তার ঘরে চাল ডাল কিছুই নেই। তাই সে এসেছিল একটু সাহায্য নিতে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সে সামনে আগাচ্ছে না। পেছনের জন ধাক্কা দিয়ে বলছে -‘ঐ মিয়া যান না’। তবু সলিম আলী কী যেন ভাবে আবার দাঁড়িয়ে থাকে। পেছনের সবাই এবার ধাক্কা দিয়ে বলছে – ‘আরে মিয়া না নিলে দাঁড়াই আছেন কেন লাইনে?’

লোকটি কাচুমাচু করে বলল- ‘ভাই কিছুদিন আগে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এখন এসব দানসামগ্রী নেয়ার পর স্যার তো আবার মোবাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে দিবেন। এই ছবি যদি আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন দেখে আমার মেয়ের তো ইজ্জত চলে যাবে। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সে খুব ছোট হয়ে যাবে। সবাই তাকে কথা শুনাবে।’

তার শেষ কথাটা খেয়াল করুন। এরকম অনেক সলিম আলী আছে, যাদের এভাবে হাত পেতে কিছু নেয়ার ছবি ফেসবুকে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন দেখলে সে লজ্জা পাবে, তার আত্মীয়স্বজন দেখলে সে লজ্জা পাবে। কেন আমরা তাদের লজ্জায় ফেলে দিচ্ছি? ঘটনাটি পুরোটাই সত্যি ঘটনা, শুধু নামটা কাল্পনিক। এই সলিম আলী কিন্তু ভিক্ষুক না। শুধু এই দুর্যোগের মুহুর্তে কাজ না থাকায় তাকে হাত পাততে হচ্ছে। কিছুদিন পর সে আবার কাজে যাবে৷ কিন্তু আপনার এই একটা ছবি হয়তো তাকে আজীবন তার আত্মীয়স্বজনের কাছে ছোট করে রাখবে। তিনি অপমানিত হবেন।

হ্যা ভাই, আপনি এই দুর্যোগে কাউকে কিছু দান করছেন এটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় কাজ। তার ছবি ফেসবুকে দেন। কোনো সমস্যা নাই। অনেকে বলে – ‘এত শো অফ করার কী আছে।’ আমি শো অফ এর বিপক্ষে নই। আপনি যতখুশি দান করেন আর তার ছবিও ফেসবুকে দেন। একজনের শো অফ দেখে অন্তত আরেকজনও যদি উৎসাহিত হয় তবে শো অফ খারাপ কিছু না। বরং আমি চাই শো অফ এর জন্য হলেও দান করেন। অন্তত কিছু মানুষ তো খেতে পাবে। কিন্তু একটা অনুরোধ ভাই, যাদের দান করছেন তাদের হাত পর্যন্ত ছবি তুলেন। তবে আপনার ছবি পুরোটা তুলেন। কিন্তু যিনি হাত পেতে নিচ্ছেন দয়া করে তার পুরো ছবি তুলবেন না। তিনি ও তো মানুষ। মান ইজ্জত তো সবার আছে। স্যালুট জানাই তাদের, যারা এই দুর্যোগে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)