সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবির শুটিং চলাকালীন হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নায়ক বাপ্পী চৌধুরী। এরপর সেখানকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ফিরতে চাইলে ছবির প্রযোজক তাকে আটকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকায় ফিরে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
৮ ফেব্রুয়ারি ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবি মুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন বছরে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন এ নায়ক। ছবিটি ৩৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ছবিটি মুক্তির একদিন আগে প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তিনি।
বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটে শ্রীমঙ্গলে “দাগ হৃদয়ে” ছবির একটা অংশের শুটিং হয়েছে। ওই সময় একরাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাই। দ্রুত আমাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওখানকার চিকিৎসকরা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় গিয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে।’
‘এরপর ছবির প্রযোজক কামাল ভাইকে (কামাল আহমেদ) বললাম, “ভাই আমি ঢাকা চলে যাই। চিকিৎসা শেষে ফিরে শুটিং করব”। তিনি বললেন, “না তোমাকে শুটিং করতেই হবে। প্রয়োজনে সিলেটেই চিকিৎসা নাও”। তখন আমি বলেছি, “আমি বলেছি শুটিং করব না। কারণ আমার শারিরিক অবস্থা খুবই খারাপ”। কিন্তু তারা আমাকে সিলেটে আটকে রাখতে চায়, বলে ইউনিট ছাড়লে আমাকে ঢাকায় যেতে দিবে না। তখন আমি সিলেটের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সিলেট ত্যাগ করি।’
এই নায়ক জানান, সিলেটে ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার আগে ঢাকায় টানা ৯ দিন আরেকটি ছবির শুটিং করেছেন। যার কারণে সিলেটে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘টানা কাজ করাতে শরীরের ওপর প্রভাব পড়েছে। শ্রীমঙ্গলে ওই সময় অনেক গরম ছিল। সেদিন শুটিং স্পটে আমি অজ্ঞানও হয়ে গিয়েছিলাম। এ ধরনের ঘটনা শুটিং স্পটে ওই প্রথম।’
ঢাকাই ছবির এই নায়ক দাবি করেন, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সিলেটের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তির সময় বাপ্পীর ব্যক্তিগত গাড়িটি সেখানকার একটি গ্যারেজে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যাতে গাড়ি নিয়ে আমি ঢাকা যেতে না পারি। এ কারণে গাড়িটিও আটকে দেয়।’
বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘আমার দিকটা তো আমাকেই বুঝতে হবে, অন্য কেউ বুঝবে না। আমার তো বডি সেফটি দরকার। তখন আমি পুলিশি সহায়তা নিই। তারা ইউনিটে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতাও পায়। তখন তারা পুলিশের কাছে দুঃখও প্রকাশ করে। আমার কারণে প্রযোজকের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা কিন্তু আমি উনাকে দিয়েছি। পরবর্তী ধাপে যখন শুটিং শুরু হয়েছে তখন আমি টানা শিডিউল দিয়ে কাজটা শেষ করে দিয়েছি। আর আমাকে যে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেও ৫০ হাজার টাকা কম নিয়েছি।’
বাপ্পী জানান, ঢাকায় আসার পর পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন দিন ভর্তি ছিলেন। এরপর আরও ১০ দিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছে তাকে।
এদিকে শুটিংয়ের সময় বাপ্পীকে ঢাকায় ফিরতে না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রযোজক কামাল আহমেদ। শুটিং ইউনিটের সদস্যদের বরাত দিয়ে প্রযোজক দাবি করেন, বাপ্পী অসুস্থ ছিলেন না। অসুস্থতার ভান করে অন্য কোনো কারণে ঢাকায় ফিরতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাকে শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়েছিল।
কামাল আহমেদ বলেন, ‘বাপ্পী তখন অসুস্থতার কথা বলে ঢাকা চলে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু আমি ওকে ঢাকাতে ফিরতে দিচ্ছিলাম না। পরবর্তীতে ঢাকায় ফেরার জন্য পুলিশের সহযোগিতা নেয়। বিষয়টিকে ঘিরে সেসময় কিছুটা জটিলতাও তৈরি হয়। এরপর সমঝোতার মাধ্যমে শুটিং শেষ না করেই ও ঢাকায় ফিরে। আসলে আমাদের টিমের অনেকের সন্দেহ ছিল, ও কি আসলে অসুস্থ নাকি অসুস্থতার ভান করছে। বিষয়টা ছিল ওখানে। টিমের অনেকেই আমাকে বলেছে, বাপ্পী অসুস্থ না, অন্য কোনো কারণে সে ঢাকা চলে যেতে চাচ্ছে। তখন আমি ধরেই নিয়েছি, ও অসুস্থ না, অসুস্থতার ভান করছে।’
‘দাগ হৃদয়ে’ ছবিতে বাপ্পীর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলামের প্রধান সহকারী পরিচালক তারেক শিকদার। ছবির সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান।
এর আগে বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনমা মিমকে ‘সুইটহার্ট’, ‘আমি তোমার হতে চাই’, ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ছবিতে দেখা গেছে। সুত্র: প্রিয়.কম
