আজও থামেনি ফাতেমাদের কা’ন্না

২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, সে এক ভ’য়া’ব’হ রাত নেমেছিল পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায়। ওয়াহেদ ম্যানশন নামে একটি ভবনের রাসায়নিক গু’দামে হঠাৎ অ’’গ্নিকা’ণ্ডে মা’রা যান কমপক্ষে ৭১ জন।

সময়ের চাকায় ভর করে দুই বছর পূর্ণ হলো সেই বি’ভী’ষি’কাম’য় ঘট’নার। সেই আ’’গু’নের উ’ত্তা’প আজও ভুলতে পারেননি নি’’হ’তদের স্বজনরা।কেউ সন্তানের, কেউ স্বামীর, কেউবা চোখের পানি ফেলছেন পিতা-মাতার ছবি হাতে। স্বজন হা’রা’নো মানুষগুলো সেই ভবনের নিচে খুঁজে ফিরছে তাদের হা’রানো স্বপ্ন।

ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে আ’’গু’নে স্বামী হারান পুরান ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে ওই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো। প্রশ্ন করতেই জানান, তার স্বামী ফয়সালের শরীরের প্রায় শতভাগই পুড়ে গিয়েছিল আ’’গু’নে। ফাতেমা অভি’যোগ করে বলেন, এই যে মামলা হয়েছে, তাতে কী হয়েছে?

বাড়ির মালিকরা তো ১০ দিনও জে’লখা’নায় ছিলেন না। জা’মি’নে বের হয়ে ঘোরাফিরা করছেন। পুড়ে যাওয়া ভবনের সংস্কারও করেছেন। সরকারও বলেছিল, আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এখনও কেউ দাঁড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তিনি যেন অন্তত আমাদের পাশে দাঁড়ান।

পুড়ে যাওয়া যুব’ক মাহিরের বাবা নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘট’নায় যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে তাতে আমরা খুশি না। নিমতলীতে যখন ঘটনাটা ঘ’টেছিল তখন যদি সরকার কড়া ব্যবস্থা নিতো, তবে চুড়িহাট্টা ট্র্যা’জেডি ঘট’তো না। এখনও যদি এই ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা না নেয়, তবে সামনে আবারও এমন ভ’য়া’ব’হ ঘ’টনা ঘ’টবে। আমরা চাই রা’সায়’নিক দ্রব্যের ব্যবসা সরকার আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নিক। আর কোনও বাবা যেন সন্তান না হা’রায়।

‘ভবনটির দুই মালিককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদেরকে যদি ঠিকঠাক জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, তবে বের হয়ে আসতো অনেক কিছু। আজও গোডাউনের মালিককে গ্রেফ’তার করতে পারেনি পুলিশ। সন্তান হারিয়েছি। কিন্তু বিচার পেলাম না।’ আক্ষেপ নাসির উদ্দিনের।

অ’’গ্নিকা’ণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলেও এ ঘটনায় করা মাম’লার চার্জশিট এখনও আদালতে জমা দিতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এজাহারে স’ন্দে’হভা’জন দুই আ’সা’মি আছে। যাদের বিষয়ে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার কারণে চার্জশিট জমা পড়েনি আদালতে।