আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন নাগরিক উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সেনাদের রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দেশটিতে এখন কয়েক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। তারা মূলত কাবুল বিমানবন্দর পাহারার কাজ করছে। খবর আল জাজিরার।
খবরে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা আছে। আরো দেড় হাজার মার্কিন সেনার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা মূলত বিমানবন্দরে মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করে দেশের বিমানে তুলে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। যতদিন সমস্ত মার্কিন নাগরিক দেশে ফিরছেন, ততদিন কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন সেনা থাকবে। এর আগে বাইডেন জানিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে সব মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে আসবে।
গত বিশ বছর ধরে বহু মার্কিন নাগরিক আফগানিস্তানে বসবাস করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অধিকাংশই কাবুলে চলে এসেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সকলে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেননি। মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসন একটি ইমেইল বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, নিজেদের দায়িত্বে ওই নাগরিকদের বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে তাদের বিমানে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব সেনার।
সমস্যা হলো, তালেবান কাবুল জুড়ে কারফিউ ঘোষণা করেছে। জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড লাগানো হয়েছে। বিমানবন্দরের রাস্তায় একাধিক ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে মানুষ বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারছেন না। ওই রাস্তায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে। তালেবান জানিয়েছে, বিনা বাধায় মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দরে যেতে দেওয়া হবে।
বাইডেন জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিক নন, যে সমস্ত আফগান নাগরিক গত বিশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছে, তাদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
বাইডেন জানিয়েছেন, প্রায় ৬৫ হাজার আফগানকে ভিসা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এত মানুষকে একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। গোটা প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। ততদিন পর্যন্ত মার্কিন সেনা কি আফগানিস্তানে থাকবে? এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেয়নি হোয়াইট হাউস।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত দুই হাজার মার্কিন নাগরিককে দেশের বিমানে তোলা গেছে। সব মিলিয়ে এখনো প্রায় দশ হাজার মার্কিনি আফগানিস্তানে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ছয় হাজার ৫০০ জন আফগান নাগরিককে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
