বিশ্বকাপের আসরকে ঘিরে রয়েছে অনেকে স্মৃতি, কাহিনী। বিশ্বকাপের কোনো কোনো গল্প যেমন অনুপ্রেরণা দেয় তেমনি অনেক গল্প বেদনা জাগায়। তেমনি একটি কাহিনী হল ইতালির বিপক্ষে ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিদানের লাল কার্ড পাওয়া। বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে জিদানের আস্তে আস্তে মাঠ থেকে চলে যাওয়ার দৃশ্য এখনো দাগা দেয় সবাইকে।
আর সেই দৃশ্যের মূলেই ছিলেন হোরাসিও এলিজোন্দো। ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুস মেরেছিলেন জিদান। কিন্তু তা নিজের চোখে দেখেননি ম্যাচটির আর্জেন্টাইন রেফারি এলিজোন্দো। তিনি জানিয়েছেন সেই কাহিনী। মূলত ম্যাচের চতুর্থ রেফারি লুইস মেদিনা কান্তালেহো এই ঘটনাটি সরাসরি দেখেছিলেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম মাতেরাজ্জি ৩০/৪০ মিটার দূরে মাটিতে শুয়ে আছে। তাই আমি খেলা থামালাম। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওহ্, কী হতে পারে? ইন্টারকমে আমার সহকারীদের জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কী? বিস্ময়কর ব্যাপার, দুজনই জবাব দিল, তারা কিছুই দেখেনি। আমি ভাবতে শুরু করলাম, বিশাল ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি। তখনই যেন আমার দেবদূত হয়ে এল লুইস মেদিনা কান্তালেহো। সেদিনের চতুর্থ রেফারি। সে বলে উঠল, ‘হোরাসিও মাতেরাজ্জিকে ভয়ংকরভাবে গুঁতা দিয়েছে জিদান। হোটেলে গিয়ে যখন সে ভিডিও দেখবে, তোমার বিশ্বাস হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাই ঘটনাস্থলে গেলাম। আমার কাছে দরকারি সব তথ্যই ছিল এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম জিদানকে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বলব।’
তবে এরপরেও ম্যাচটি পেনাল্টি শুট আউটে গিয়েছে এবং ইতালির কাছে হেরেছে ফ্রান্স। যদি জিদান মাঠে থাকতেন তাহলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। আর তাই ভক্তরা হয়তো ভাবতেই পারে, যদি কান্তালেহো সেদিন অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতেন তাহলে ২০০৬ সালেই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ পেয়ে যেতে পারত ফ্রান্স। কারণ তখন তো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ছিল না।
