স্থানের নাম ‘সেক্স আইল্যান্ড’। সেখানে পুরুষদের জন্যে রয়েছে এক ‘চমকপ্রদ’ অফার। বিতর্কিত এই আয়োজনে পুরুষের অবকাশ যাপনের দিনগুলোকে যৌনতায় ভরপুর করে তুলতে সেখানে অপেক্ষা করছেন ১০০ জন লাস্যময়ী।
পরিবেশ পুরোপুরি ‘অ্যালকোহল এবং মাদক’ বান্ধব। নেভাদার এক গোপন স্থানে চুটিয়ে সময় কাটানোর আয়োজনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অর্থের বিনিময়ে কেনা যাবে সম্ভোগ। আগামী মাসে চার রাত কাটবে ভরপুর যৌনতায়। এক শত সুন্দরী রমনীর সাথে অবারিত যৌনতার সুযোগ থাকছে। অংশগ্রহণকারীদের দিতে হবে ৪৬০০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ টাকার মতো পড়বে।
গতবারের এমন বেলেল্লাপনা ভেনিজুয়েলার উপকূলে আয়োজিত হয়েছিল। প্রথমবারের মতো আয়োজকরা আমেরিকায় উপস্থিত হয়েছেন। নেভাদা মরুভূমির কোনো এক স্থানে এমন অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর প্রমোশনাল ভিডিও কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যেই প্রযোজ্য। অথচ তা অনলাইনে ছাড়া হয়েছে। এটা কাভার করছে সংবাদমাধ্যম। সেখানে নগ্ন নারীদের অশ্লীল উপস্থাপনা রীতিমতো দৃষ্টিকটু। যৌনতা নিয়ে যারা কুরুচিকর কল্পনায় ভাসেন, তাদের সেই কল্পনাকে বাস্তবায়ন করা যাবে এখানে- আয়োজনের ভাষা তাই বোঝায়।
পুরুষরাই এখানকার ক্রেতা। যৌন সুড়সুড়ির মাধ্যমে তাদের উদ্বেলিত করতে বিজ্ঞাপনের শেষে লেখা হয়েছে ‘স্বর্গ ভ্রমণের জন্যে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না’।
‘সেক্স আইল্যান্ডে’ গিয়ে একজন পুরুষ কীভাবে সময় কাটাতে পারবেন তারও নমুনা উঠে এসেছে এর বিজ্ঞাপনে। কিন্তু এটা অকাশ কাটানোর জন্যে কোনো রিসোর্টের বিজ্ঞাপন হতে পারে না। একে নিঃসন্দেহে ‘সফট পর্ন’ ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়। সেখানে নারীরা তো আছেনই, আরো আছে মদ-মাদক আর খাবারের ব্যবস্থা। পুরো আয়োজনই বিলাসবহুল।
হেলিকপ্টার, বাইক এবং ঘোড়ায় যৌনতাপূর্ণ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে। আছে ক্যাসিনোতে ভ্রমণের সুযোগ। এর আয়োজক ‘দ্য গুড গার্লস কম্পানি’ জানায়, অংশগ্রহণকারী পুরুষ তাদের পছন্দমতো সুন্দরীদের বাছাই করে নিতে পারবেন। অবশ্য তিনি যদি একাকী বোধ করেন, তো সাথে আরেকজন বন্ধু বা সঙ্গীকে নিতে পারেন।
এই অবকাশ আয়োজনে আরেকটি চমকপ্রদ অফারের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিরিশ মিনিট একযোগে পছন্দের ৫০ নারীকে নিয়ে বিছানায় সময় কাটানো যাবে। পুরুষের বিকৃত যৌনাচারকে উস্কে দেয়া ছাড়া এ আর কিছুই নয়। উপভোগ করা যাবে হলোগ্রাফিক কনসার্ট।
প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানান, ইতোমধ্যে ১৩ জন ব্রিটিশ পুরুষ বুকিং দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন তো তার স্ত্রীকে নিয়েও যেতে প্রস্তুত।
সাড়া পেয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান পরের আয়োজনের দিনক্ষণও ঠিক করে ফেলেছে। এর আগের আয়োজনে যেকোনো ধরনের মাদকের সরবরাহ থাকলেও এবার নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। এবার শুধু গাঁজাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
আমেরিকার নেভাদা একমাত্রা স্টেট যেখানে পতিতাবৃত্তিকে বিভিন্ন চেহারায় বৈধতা দেয়া হয়েছে।
এর আগের আয়োজনগুলোকে মানুষ ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘অসুস্থ’ বলে মত দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ এর বিরোধিতা করেছে। অনতিবিলম্বে এমন আয়োজন বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন অনেকে।
এ ধরনের ‘অসুস্থ’ আয়োজনের আরেকটি উদাহরণ দেয়া যাক। আয়োজকরা বলছেন, সেখানকার নারীদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হবে। সে প্রতিযোগিতার শর্তমতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী হলে তাকে পুরো অর্থ ফেরত দেয়া হবে।
আরো প্রস্তাব রয়েছে। থাকছে র্যাফেল ড্র। সেক্স আইল্যান্ডের অনলাইন স্টোর থেকে পণ্য কিনলে টিকিট মিলবে। ড্র-তে বিজয়ী হলে সবকিছু ফ্রি।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অবলীলায় বলা হয়েছে, ১০০ জন সুন্দরী নারীর সঙ্গ উপভোগ করুন আমাদের অ্যালকোহল ও গাঁজা বান্ধব পরিবেশে। আমাদের এই মেয়েরা পরীক্ষিত এবং তাদের কোনো যৌনবাহিত রোগ নেই। কনডম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের নীতিমালা স্পষ্ট।
লোভ দেখানো হয়েছে পুরুষদের। বলা হয়েছে, মেয়েদের নিয়ে এই মিশনে নেমে আপনি নিজেকে রাজার বেশে দেখবেন। চারপাশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করুন মেয়েদের সাথে।
আয়োজনে এমনকি কিশোর বয়সীদেরও সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বয়সের আগেই তারা এমন চরম অশ্লীল জীবনের নমুনা দেখছে। এ ধরনের পরিবেশ কোনভাবেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কিংবা যৌনজীবনের সঙ্গে খাপ খায় না। গতবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। সে ফিরে এসে বলে, আমি সেক্স আইল্যান্ডে গিয়ে আমার কুমারত্ব হারিয়েছি।
ব্রায়ান নামের ছেলেটি আরো জানায়, সময়টা ছিল অসাধারণ! এটার কথা মনে করে আমার কান্না করতে ইচ্ছে করে।
অর্থাৎ, এই কম বয়সীদের মধ্যেও কুরুচিকর যৌনতাকে উপভোগ্য করে তুলে ধরা হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন সমালোচকরা।
সেখানে ব্রায়ান প্রথমবারের মতো যৌনতা করেছে, প্রথমবারের মতো অ্যালকোহল পান করেছে এবং প্রথমবারের মতো মাদক নিয়েছে। ওখান থেকে ফিরে যদি সে এমন অস্বাভাবিক কল্পনা থেকে ফিরতে না পারে তো সারাজীবনের জন্যে বিকৃত যৌনাচার, মদ ও মাদক তার সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।
সে আরো জানায়, ওখানে গিয়ে আন্দ্রিয়া নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়েছি।
দাম্পত্য জীবনেও অশান্তি ও মিথ্যাচার বয়ে আনছে এই আয়োজন। রাইয়ান নামের এক অংশগ্রহণকারী অফিসের কাছে বাইরে যাচ্ছেন বলে সেক্স আইল্যান্ডে সময় কাটিয়ে আসেন। তিনি জানান, ওখানকার এক প্রমোদতরীতে ছিল ল্যাটিন সুন্দরীরা। তাদের সাথে নেচেছি আর অ্যালকোহল পান করেছি। সেখানে যাওয়ার পর প্রত্যেককে দুজন নারী পছন্দ করে নিতে বলা হয়। আমি সেখানে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে একজনকে নিয়ে বিছানায় উঠেছি।সূত্র: মিরর
