অপেক্ষায় জ্যোতি

চলতি প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। এরই মধ্যে টিভি ও চলচ্চিত্র পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন সুঅভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত তিনি। তবে কেবলমাত্র ভিন্নধর্মী কাজই করছেন। আর সে কারণে জ্যোতি গত দুইবছর ধরে ছোট পর্দায় কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। একেবারে হাতে গোনা নাটকের কাজ করছেন তিনি।
এই সময়টায় জ্যোতি ব্যস্ত থেকেছেন বড় পর্দায়। তবে গতানুগতিক ধারার কাজ আর করতে চান না তিনি। এরই মধ্যে দু’টি ছবির কাজ শেষ করেছেন তিনি। এর মধ্যে একটি ছবি হলো কলকাতার আরেকটি দেশীয়। চলতি বছরই তিনি শেষ করেছেন কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবির কাজ। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত এ ছবিতে জ্যোতি অভিনয় করেছেন রাজলক্ষ্মী চরিত্রে। আর শ্রীকান্তর চরিত্রে তার বিপরীতে আছেন হৃতিক চক্রবর্তী। অন্যদিকে সরকারি অনুদানের ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার এর শুটিং শেষ করেছেন। এ ছবির প্রধান চরিত্রে কাজ করছেন তিনি। এদিকে বিভিন্ন সময় তরুণদের সঙ্গে যৌক্তিক আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলতি আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে যোগ দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে রাস্তায় নেমে আন্দোলনেও যোগ দিয়েছেন। জ্যোতি বলেন, আসলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে এটা বাংলাদেশের সব মানুষের দাবি। আর ছাত্ররা যেভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থার সংস্কারের কাজ নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে এটা প্রশংসার যোগ্য। আমি এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানাতে ও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতেই রাজপথে নেমেছিলাম। আমার সঙ্গে নাট্যজগতের বেশ কিছু শিল্পীও ছিলেন। আমার বিশ্বাস এই আন্দোলন সফল হবে। এদিকে খুব শিগগিরই নতুন ছবির ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন জ্যোতি। তবে সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ তিনি। এদিকে জ্যোতি বর্তমানে কেবল বড় পর্দা নিয়েই ভাবছেন। আর্ট কিংবা বাণিজ্যিক ছবির মধ্যে কোন্‌ ধারার ছবি আপনাকে টানে? উত্তরে জ্যোতি বলেন, ‘আমার কাছে ছবি মানে ছবিই’। সেটা যে কোনো ধরনের হতে পারে। আমার কাছে গল্প, নির্মাণ ও চরিত্রটাই মুখ্য। আমি এখন পর্যন্ত কেবল অফট্র্যাকের ছবিতেই কাজ করেছি। সামনে হয়তো বাণিজ্যিক ধারার ছবিতেও আমাকে পাওয়া যাবে। তবে সব কিছু মনের মতো হলেই বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করবো। বরংচ ভালো বাণিজ্যিক ছবি হলে আমি করতে আগ্রহী। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবির কি খবর? জ্যোতি বলেন, ছবির কাজ শেষ হয়েছে। এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছি। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ একটি ঐতিহাসিক গল্পের ছবি। এ ছবিতে রাজলক্ষ্মীর চরিত্রে কাজ করাটা ছিলো চ্যালেঞ্জিং। আমি এর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছি। আমি আমার তরফ থেকে শতভাগ উজাড় করেই কাজ করেছি। বাকিটা প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে গিয়ে দর্শকরা বিচার করবেন। এদিকে জ্যোতি এ ছবির পর পরই চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শেষ করেন ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’ ছবির। মাসুদ পথিক পরিচালিত সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এ ছবির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যোতি। তার বিপরীতে রয়েছেন প্রাণ রায়। এটিও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জ্যোতি বলেন, এ ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী।
একজন গ্রামের তরুণীর জীবনযুদ্ধের কথা উঠে আসবে এ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি করতে গিয়ে আমি যেন সত্যি সত্যি মায়া বনে গিয়েছিলাম। গ্রামের তরুণীর সাজসজ্জা, জীবনযাত্রা এসব কিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম কিছুদিন। আমি মনপ্রাণ দিয়ে এ ছবির কাজটি করেছি। ছবিটিও দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই বিশ্বাস করি। এদিকে ক’দিন আগে জ্যোতি কাজ শেষ করেছেন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের। এর নাম ‘ফার্নিচার’। এ প্রসঙ্গে জ্যোতি বলেন, মজার ব্যাপার হলো ছবিটিতে আমার বোনের ছেলে সোনাই অভিনয় করেছে আমার সঙ্গে। এটা মজার অভিজ্ঞতা। আমি ছাড়া আমার পরিবারের মধ্যে কেউ কোনোদিন অভিনয় করেনি। সোনাই‘ফার্নিচার’ শর্টফিল্মে অভিনয় করেছে। তার চরিত্রের নাম মানিক। সামনের পরিকল্পনা কি? জ্যোতি বলেন, আমি ভালো কাজ করতে চাই। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে। কারণ বড় পর্দায় নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটা বেশি। আমি নিজেকে প্রতিটি চরিত্রে প্রমাণ করতে চাই।